দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চার অব ফার্মের মুরগি
গল্প

দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চার অব ফার্মের মুরগি

শেয়ার করুন: Facebook Twitter WhatsApp

সাধারণত সিঁড়ি দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে নামে ইভান। এখন অবশ্য লাফাচ্ছে না, জগিংয়ের মতো আস্তে আস্তে পেরোচ্ছে ধাপগুলো। মাথার ভেতর চিন্তার ঝড় চলছে ওর। হঠাৎ কেন থানায় ডেকে পাঠালেন রুশার বাবা? বিল্ডিংয়ের বাইরে এসে দাঁড়াল ইভান। ওর মনে হলো, রুশাকে ব্যাপারটা জানানো উচিত। নইলে পরে রেগে যাবে ও। বলবে, ‘উফ্, তুমি আমাকে জানাবা না?’ কিন্তু জানালে যদি আবার উল্টাটা হয়? রুশা যদি ওর বাবাকে ফোন করে বলে, ‘বাবা, তুমি ইভানকে কেন ডেকেছ?’ কিংবা যদি নিজেই চলে আসে থানায়? তখন নিশ্চয়ই ব্যাপারটা ভালোভাবে নেবেন না ওর বাবা। কী করা উচিত, বুঝতে পারল না ইভান। রাহাত বা রাতুলকে কি জানিয়ে যাওয়া উচিত? নাহ, ওদের জানালে ওরা আবার অযথা চিন্তা করবে। তা ছাড়া বললে রাতুলকে তো থামানোই যাবে না কোনোভাবে। দলবল নিয়ে থানায় উপস্থিত হবে ছেলেটা।

ভাবতে ভাবতেই গলির মাথায় চলে এল ইভান। রিকশা ডাকল একটা। রিকশায় উঠে ভাবনায় ডুবে গেল আবার। ‘আচ্ছা, রুশা বাসায় গিয়েছে তো ঠিকমতো? আমি তো কাছকাছি এসে রিকশা থেকে নেমে গিয়েছিলাম। তারপর বাসায় এসেই সোজা চলে গিয়েছি গোসলে। রুশার কোনো ফোন বা মেসেজ তো আসেনি।’ চিন্তা বাড়ল ইভানের। পকেট থেকে ফোন বের করে কল করল রুশাকে। রিং হলো, কিন্তু রিসিভ করল না রুশা। মেসেঞ্জারেও সবুজ বাতি জ্বলছে না রুশার নামের পাশে। ‘তোমার বাবা কল দিয়ে আমাকে থানায় যেতে বলেছেন। আমি যাাচ্ছি এখন।’ মেসেজ লিখে সেন্ড করে দিল ইভান। সেন্ট হওয়ার পরই ওর মনে হলো, ঘটনা না জেনে আগেই ওকে জানানোর দরকার নেই। আনসেন্ড করে দিল মেসেজটা। শুধু লিখল, ‘তুমি কোথায়?’

ফোনটা আবার পকেটে ঢুকিয়ে দিল ইভান। অস্থিরতা কমানোর চেষ্টা করল বড় করে শ্বাস নিয়ে। ‘নার্ভাস হওয়ার কিছু নাই।’ মনে মনে বলল ইভান। রাস্তার দোকানগুলোর দিকে নজর দিয়ে মনযোগ অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করল ও। দোকানের সাইনবোর্ডগুলো পড়তে লাগল একটার পর একটা। কাজটা নতুন নয় ওর জন্য। কোথাও যাওয়ার সময় সাইনবোর্ডের লেখাগুলো পড়া ওর পুরোনো অভ্যাস।

সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো অজান্তেই ভেসে উঠল চোখের সামনে। বাইকে এসে কারা আক্রমণ করতে চাইল ওদের ওপর? জিকো ছাড়া আর কোনো শত্রু নেই ইভানের। জিকো ওদের ফলোও করেছিল। ও ছাড়া এই কাজ কে করাবে? ‘কী শয়তান! পা ভেঙে নিজে বাইক চালাতে পারছে না, অন্যদের দিয়ে পাঠিয়েছে।’ ভাবল ইভান। আবার ফোন বের করে রাতুলকে কল করল ও।

‘হ্যালো, রাতুল।’

‘কিরে…’

‘আজকে জি ব্লকে গিয়েছিলাম আমি রুশা।’

‘সেই মামা, সেই!’

‘আরে শোন, ফাজলামি না। দুটি বাইকে চারজন আমাদের অ্যাটাক করতে চেয়েছিল। ফোন নিতে চেয়েছে।’

‘বলিস কী! কারা?’

‘চিনি না তো। তোর পোলাপানদের একটু জিজ্ঞেস করিস তো।’

‘আচ্ছা, আমি এখনই খোঁজ নিচ্ছি। তুই প্যারা নিস না।’

‘ওকে।’

একটু পর থানার ঠিক সামনেই ইভানকে নামিয়ে দিল রিকশা। ভাড়া মিটিয়ে ও দেখল, মেইন গেটের পাশেই পুলিশের একটা টহল গাড়ি। গাড়িতে একজনকে হাতকড়া পরিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। লোকটাকে অবশ্য খুব একটা চিন্তিত বলে মনে হলো না ওর। দেখে মনে হচ্ছে, লোকটা আরাম করে মেট্রোতে বসে আছে। নির্ধারিত স্টেশনে এলেই নেমে যাবে। তবে গাড়ির সামনে মনে হয় তার পরিচিত মানুষেরা ভিড় করেছে। একজন পুলিশ সদস্য কথা বলছেন তাদের সঙ্গে। আর না দাঁড়িয়ে দ্রুত পা চালাল ইভান, ঢুকে গেল থানার ভেতরে।

এই থানায় আগে একবার এসেছিল ও। ব্যাগে ছুরি পাওয়ার পর হেডস্যারের রুম থেকে থানায় নিয়ে এসেছিল পুলিশ। পুরো ঘটনাটা ইভানের চোখের সামনে ভেসে উঠল আবার। ওসির রুম কোন দিকে, জানে ও। তারপরও ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞেস করল নিশ্চিত হওয়ার জন্য। হাতের ইশারায় তিনি দেখিয়ে দিলেন কোন দিকে যেতে হবে। রাত হয়ে গেছে, তবু থানায় অনেক মানুষের আনাগোনা। ব্যস্ত ভঙ্গিতে ছোটাছুটি করছে মানুষ। তার মধ্য দিয়েই করিডর ধরে হেঁটে যাচ্ছে ইভান। হঠাৎ পেছন থেকে একজন বললেন,

‘এই ছেলে, এখানে কী? তুমি কই যাও?’

থমকে দাঁড়াল ইভান। ওর দিকেই এগিয়ে এসেছেন একজন পুলিশ সদস্য। আবার বললেন,

‘কী? এখানে কী চাও?’

‘ওসি স্যার দেখা করতে বলেছেন।’ বলল ইভান। ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকালেন পুলিশ সদস্য।

‘আসো, আমার সাথে আসো।’ বলেই হাঁটা দিলেন তিনি। মেঝেতে গটগট শব্দ তুলল তাঁর বুটজোড়া। দ্রুত পুলিশ সদস্যের পেছন পেছন হাঁটল ইভান। ওসির রুমের দরজার সামনে গিয়েই খটাশ করে স্যালুট ঠুকলেন তিনি। তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল ইভান। নিজের চেয়ারে বসে ফোনে কথা বলছেন ওসি। ইভানকে দেখে ভেতরে যেতে বললেন হাতের ইশারায়। টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল ইভান। টেবিলে রাখা ওয়াকিটকি থেকে একটু পরপর অস্পষ্টভাবে নানা রকম কথা ভেসে আসছে, ওভার আর আউট ছাড়া কোনো শব্দই ইভানের মাথায় ঢুকল না। হঠাৎ বেজে উঠল ইভানের ফোন। রাতুল কল করেছে। দ্রুত ওর কল কেটে সাইলেন্ট করে দিল ইভান। এখন কথা বলার সুযোগ নেই। এদিক-ওদিক তাকিয়ে সময় কাটানোর চেষ্টা করল ও। কথা শেষ করে ফোনটা টেবিলের ওপর রাখলেন ওসি মোস্তাফিজ। ছোট একটা শ্বাস ফেলে ইভানের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘বসো।’ চেয়ার টেনে বসল ইভান। ওসি বললেন,

‘কী খাবে, বলো। পাশেই পুলিশ ক্যানটিন আছে। ভালো মোগলাই পাওয়া যায়। খাবে?’