পাখির ভাষা বোঝেন যিনি
শিকারি বাবার সন্তান শরীফ খান। বেড়ে উঠেছেন গ্রামীণ বনে ঘেরা পল্লিগাঁয়ে। যে গাঁয়ে তাঁদের নিত্যবসবাস ছিল মেছো বাঘ, শিয়াল, খাটাশ, বনবিড়াল আর পাখিদের সঙ্গে। বাবা ছিলেন বন কর্মকর্তা। বাবার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন বনে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন খুব ছোটবেলায়ই। খুব কাছ থেকে দেখেছেন এ দেশের প্রাণপ্রকৃতি। প্রয়োজনে শিকার করেছেন। তবে তার চেয়ে বেশি ভালোবেসেছেন এ দেশের বন্য প্রাণী, পাখি আর বনজীবনকে। লেখালেখি করে প্রাণপ্রকৃতি রক্ষায় রেখেছেন বিশেষ অবদান।
গত শতাব্দীর সত্তর দশক থেকেই লিখছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ ও প্রকৃতিবিষয়ক গল্পে দেখা গেছে তাঁর বিশেষ মুনশিয়ানা। বিখ্যাত সেবা প্রকাশনী থেকেও বেশ কিছু বই বেরিয়েছিল তাঁর। নিয়মিত লিখতেন রহস্যপত্রিকায়ও। এখন প্রথম আলো, কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তায় প্রকৃতি ও বণ্য প্রাণী নিয়ে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন। বন্য প্রাণী ও পাখি রক্ষার জন্য সচেতনতামূলক লেখাই বেশি লিখেছেন। তাঁর প্রায় প্রতিটি লেখা শিশু-কিশোর উপযোগী। ননফিকশন বইগুলোকেও তিনি তত্ত্ব আর তথ্যের ভারে জেরবার করেননি। বরং নিজের গ্রামীণ জীবনের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে বন আর পাখির গল্প বলেছেন। এর ভেতরই দেখিয়ে দিয়েছেন এদের টিকে থাকার সংগ্রামের কাহিনি। শুধু গ্রামীণ বনের পাখি নিয়ে নয়, ঢাকা শহরের পাখি নিয়েও তিনি প্রচুর লিখেছেন এবং এখনো লিখে যাচ্ছেন।
শরীফ খান বাংলাদেশের পাখি বইয়ের জন্য ১৪১৪ বঙ্গাব্দে পেয়েছেন প্রথম আলোর বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার। এই গুণী লেখক ও প্রকৃতিপ্রেমী ২০১৫ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। কিশোর আলোর হয়ে জনপ্রিয় এই লেখকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাংবাদিক কাজী আলিম-উজ-জামান।