‘অনুভূতি হয়ে উঠুক লেভেল ফাইভ’
সাক্ষাৎকার

‘অনুভূতি হয়ে উঠুক লেভেল ফাইভ’

শেয়ার করুন: Facebook Twitter WhatsApp

কিশোর আলো :

লেভেল ফাইভের শুরু কবে?

শুরুটা ২০১১ সালে। ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বলা যায় কাইজার (গিটারিস্ট) ও আইদিদকে (ভোকালিস্ট)। ওদের হাত ধরেই শুরু। এত দিনে এসে অবশ্য লাইনআপ পাল্টেছে আমাদের। কাইজার সঙ্গে না থাকলেও এখন পাঁচজনের ব্যান্ড লেভেল ফাইভ।

কিশোর আলো :

লেভেল ফোর কিংবা সিক্স না হয়ে, ব্যান্ডের নাম লেভেল ফাইভ কেন?

 

নাম নিয়ে আমরা বেশ সমস্যায় ছিলাম। কোনোভাবেই পছন্দের নাম পাচ্ছিলাম না। আমাদের ভোকালিস্ট আইদিদ প্রতিদিন পড়ার টেবিলে বসে একটা করে নাম লিখত। হুট করে একদিন মাথায় এল ‘লেভেল ফাইভ’ নামটা। দশের ভেতর যদি আমরা কাউকে কোনো গড় নম্বর দিতে চাই, তাহলে সেটা হয় পাঁচ। আমরাও নিজেদের মাঝামাঝি মনে করি। খুব অসাধারণও না, আবার খুব একটা খারাপও না। শ্রোতাদের কাছে সাধারণ কিন্তু স্নিগ্ধ হয়ে থাকতে চাই। এভাবেই আমরা লেভেল ফাইভ।

আর হ্যাঁ, আমাদের ব্যান্ডের সদস্যসংখ্যাও কিন্তু পাঁচ।

কিশোর আলো :

আপনাদের গানগুলোর পেছনে কি আলাদা কোনো গল্প আছে?

আমাদের একেক গানের পেছনের গল্পগুলো একেক রকম। দুইটা গানের গল্প শোনাই তোমাদের। ‘সিক্সটিজ লাভ’ আমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান। অন্তত ভিউস তা–ই বলছে। গানটার গল্প ষাটের দশকের। যখন ইন্টারনেট বা ফেসবুকের অস্তিত্ব ছিল না। তরুণ-তরুণীদের যোগাযোগের উপায় ছিল চিঠি। সে সময় আমাদের কাইজারের বাবা ওর মাকে একটা চিঠি পাঠিয়েছিল। অনেক দিন পর সেই চিঠি আমাদের হাতে আসে। চিঠিতে থাকা কথাগুলো থেকে আমরা গানটা বানাই। সে যুগে ছেলে–মেয়ে কথা বলাই তো বড় বিষয় ছিল। তখনকার প্রেমের স্মৃতি হলো ‘সিক্সটিজ লাভ’।

‘সত্য-মিথ্যে’ গানের কথাগুলো অনেক আগে লেখা। আমাদের ব্যান্ডের বেজিস্ট রাজিনের এক বন্ধুর নাম অনিক সেন। যে সময়ের গল্প বলছি, তখন জীবনের একটা বেশ কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল অনিক। ওর সঙ্গে তখন দেখা হতো ঢাকার বিশ্বরোডে। লম্বা সময় বসে গল্প করতাম আমরা। গল্পের মধ্যেই একদিন অনিকের ব্যাগ থেকে কিছু একটা বের করতে গিয়ে অনেকগুলো কাগজ নিচে পড়ে যায়। তার ভেতর একটা পুরোনো কাগজ চোখে পড়ল। ছেঁড়া, পুরোনো আর কাটাকুটিতে ভরা। এই কাগজের লেখাগুলোই ছিল ‘সত্য-মিথ্যে’র লিরিক্স। আমরা চেয়েছিলাম এই গান দিয়ে অনিকের গল্পটা বলতে।